বাংলা ব্যাকরণে কিছু শব্দ আছে যা আমাদের প্রায়ই ধাঁধায় ফেলে দেয়। '
বজ্রকণ্ঠ' তেমনই একটি শব্দ। এই শব্দটি কি কেবল একটি গুণ, নাকি কোনো ব্যক্তিকে বোঝায়? এর ব্যাসবাক্য করার ওপর ভিত্তি করেই সমাসটি পরিবর্তিত হতে পারে। সহজভাবে বিষয়টি দেখে নেওয়া যাক।
১. যখন এটি উপমান কর্মধারয় সমাস:
আমরা যখন কারো কণ্ঠস্বরের গাম্ভীর্য বা তীব্রতা বোঝাতে শব্দটি ব্যবহার করি, তখন এটি
উপমান কর্মধারয় সমাস।
ব্যাসবাক্য : বজ্রের ন্যায় (গম্ভীর বা কঠিন) কণ্ঠ।
বিশ্লেষণ : এখানে কণ্ঠের একটি গুণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কণ্ঠস্বরটি বজ্রের মতো শক্তিশালী—এই তুলনাটিই এখানে প্রধান।
২. যখন এটি বহুব্রীহি সমাস:
আবার যখন আমরা শব্দটি দিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বিশেষায়িত করি, তখন এটি হয়ে যায়
বহুব্রীহি সমাস।
ব্যাসবাক্য : বজ্রের ন্যায় কণ্ঠ যাঁর।
বিশ্লেষণ : এখানে 'বজ্র' বা 'কণ্ঠ' কোনোটির অর্থই প্রধান নয়, বরং যার ওইরকম কণ্ঠ আছে সেই ব্যক্তিটিই প্রধান। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে 'বজ্রকণ্ঠের অধিকারী' বলি, তখন এটি বহুব্রীহি সমাস হিসেবেই গণ্য হয়।
 |
বজ্রের ন্যায় কণ্ঠ যাঁর = বজ্রকণ্ঠ |
অনুরূপভাবে,
'পিতাম্বর' শব্দটির ক্ষেত্রেও আমরা একই ধরণের সমাস বৈচিত্র্য লক্ষ্য করি, যা একই সাথে কর্মধারয় ও বহুব্রীহি সমাস হতে পারে।
৩. রূপক কর্মধারয় কি হতে পারে?
অনেকে ব্যাসবাক্য করার সময় 'বজ্র রূপ কণ্ঠ' বলে থাকেন। কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে কণ্ঠ সরাসরি বজ্র হয়ে যায় না, বরং বজ্রের গুণের সাথে কণ্ঠের তুলনা করা হয়। তাই এটি 'উপমান' হিসেবে ধরাটাই বেশি যুক্তিসঙ্গত।
উপসংহার :
ব্যাকরণ সবসময় শব্দের প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। যখন 'বজ্রকণ্ঠ' শব্দটি দিয়ে সাধারণ গাম্ভীর্য বোঝানো হবে, তখন এটি উপমান কর্মধারয়; আর যখন নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করা হবে, তখন এটি বহুব্রীহি।
আপনি কোন ব্যাখ্যাটিকে বেশি যুক্তিযুক্ত মনে করছেন? কমেন্টে আপনার মতামত জানাতে ভুলবেন না।
● পড়ুন : সমাস নিয়ে আরও সহজ পাঠ -