তৎপুরুষ সমাস : বিভক্তির লুকোচুরি
দীর্ঘ দিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতায় আমি দেখেছি, বিভক্তির ঝামেলার কারণে ছাত্ররা তৎপুরুষ সমাসকে কঠিন মনে করে, কিন্তু কারকের সাথে মিলিয়ে পড়লে এটি সবার কাছেই পানির মতো সহজ হয়ে যাবে।
১. তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে?
যে সমাসে পূর্বপদের বিভক্তি লোপ পায় এবং পরপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে, তাকেই তৎপুরুষ সমাস বলে।
২. কারক ও বিভক্তি অনুযায়ী প্রকারভেদ:
দ্বিতীয়া বা কর্ম তৎপুরুষ (কে/রে লোপ): পূর্বপদে কর্ম কারকের বিভক্তি 'কে/রে' লোপ পায়। যেমন— বিপদকে আপন্ন = বিপদাপন্ন।
তৃতীয়া বা করণ তৎপুরুষ (দ্বারা/দিয়া/কর্তৃক লোপ): পূর্বপদে করণ কারকের বিভক্তি লোপ পায়। যেমন— মন দিয়া গড়া = মনগড়া।
চতুর্থী বা সম্প্রদান তৎপুরুষ (জন্য/নিমিত্ত লোপ): ব্যাসবাক্যে 'জন্য' বা 'নিমিত্ত' লোপ পায়। যেমন— হজের নিমিত্তে যাত্রা = হজযাত্রা।
পঞ্চমী বা অপাদান তৎপুরুষ (হইতে/থেকে লোপ): পূর্বপদে অপাদান কারকের বিভক্তি লোপ পায়। যেমন— খাঁচা থেকে ছাড়া = খাঁচাছাড়া।
ষষ্ঠী বা সম্বন্ধ তৎপুরুষ (র/এর লোপ): পূর্বপদে সম্বন্ধ পদের বিভক্তি লোপ পায়। যেমন— চায়ের বাগান = চাবাগান।
সপ্তমী বা অধিকরণ তৎপুরুষ (এ/য়/তে লোপ): পূর্বপদে অধিকরণ কারকের বিভক্তি লোপ পায়। যেমন— গাছে পাকা = গাছপাকা।
৩. বিশেষ প্রকার (নঞ তৎপুরুষ / না তৎপুরুষ):
যখন পূর্বপদে না-বোধক অব্যয় (ন, নেই, নাই) থাকে। যেমন— নয় বিশ্বাস = অবিশ্বাস।
মনে রাখবে, তৎপুরুষ সমাসের নামগুলো মূলত কারকের নাম অনুসারেই হয়। তাই কারক ও বিভক্তি চিনতে পারলেই তৎপুরুষ সমাস নির্ণয় করা জলের মতো সহজ হয়ে যায়।
বই থেকে আরো আরো উদাহরণ লক্ষ্য করো, বুঝতে অসুবিধা হলে সরাসরি জিজ্ঞেস করে জেনে নিও।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার সুচিন্তিত মতামত বা প্রশ্ন এখানে জানাতে পারেন। গঠনমূলক এবং জানার আগ্রহে আলোচনা কাম্য।