'অনুস্বার' ( 'ং) এর নাম অনুস্বার কেন ?
বাংলা ব্যাকরণে 'অনুস্বার' বা 'অনুস্বর' {ং} নামটির পেছনে সুন্দর একটি যৌক্তিক কারণ আছে। এটি সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে, যার ব্যুৎপত্তিগত অর্থ বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়।
আমরা সবাই জানি 'অনুস্বার' একটি অযোগবাহ বর্ণ। অর্থাৎ, অন্য কোনো স্বরবর্ণের সাহায্য ছাড়া এটি নিজে নিজে শব্দে বসতে পারে না বা উচ্চারিত (বাহিত) হতে পারে না।
কিন্তু, আজকের আলোচ্য বিষয় সেটা নয়, আজকের আলোচ্য হল, 'অনুস্বার' ( 'ং) এর নাম অনুস্বার কেন ?
![]() |
| নামের কারন কী? |
এবার নামের রহস্য দেখা যাক :-
'অনুস্বার' শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দের সমন্বয়ে গঠিত: 'অনু' এবং 'স্বার' বা 'স্বর'।
১. অনু : এর অর্থ হলো 'পশ্চাৎ' বা 'পরে'।
২. স্বার : এটি এসেছে 'স্বর' শব্দ থেকে, যার অর্থ হলো 'স্বরবর্ণ' বা 'ধ্বনি'।
অর্থাৎ, শব্দগতভাবে 'অনুস্বার' মানে হলো — যা স্বরবর্ণের পরে বা পেছনে উচ্চারিত হয়।
ব্যাকরণগত যুক্তি ও উদাহরণ:-
অনুস্বারকে কেন এই নামে ডাকা হয়, তার প্রধান এবং সহজ কারণ হলো:
একাকী চলতে পারে না : আগেই বলা হয়েছে অনুস্বার একটি অযোগবাহ বর্ণ। ফলে, এটি নিজে নিজে কোনো শব্দ গঠন করতে পারে না বা কোনো শব্দের শুরুতে বসতে পারে না। এটি সর্বদা কোনো একটি স্বরবর্ণের আশ্রয়ে তার পরে বসে। যেমন:- 'রং' শব্দটি উচ্চারণ করতে গেলে 'র' বর্ণের পরে যে 'অ' স্বরটি লুকিয়ে আছে, অনুস্বার ঠিক তার পরেই উচ্চারিত হচ্ছে। স্বরের পরে বা পেছনে এর অবস্থান নিশ্চিত ভাবে বোঝা যাচ্ছে। এই কারনেই ব্যাকরণবিদরা এর নাম দিয়েছেন অনুস্বার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার সুচিন্তিত মতামত বা প্রশ্ন এখানে জানাতে পারেন। গঠনমূলক এবং জানার আগ্রহে আলোচনা কাম্য।