"নিচের প্রশ্ন গুলোর উত্তর লেখ।" — বছরের পর বছর ধরে আমরা প্রশ্নপত্রে এই বাক্যটি দেখি এবং নিজেরাও অবলীলায় ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখি, এই 'লেখ' শব্দটির বানান আধুনিক প্রমিত নিয়ম অনুযায়ী কতটুকু সঠিক?
আমরা ক্লাসে ছাত্রদের বলি 'লেখো', কিন্তু পরীক্ষার পাতায় লিখে দিই 'লেখ'। এই যে দ্বিধা—কখন ও-কার দেবো আর কখন দেবো না—এটিই আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয়। কেবল 'লেখো' নয়, আমাদের প্রতিদিনের জীবনে 'করো', 'বলো' বা 'হলো'র মতো শব্দগুলো নিয়ে যে বিভ্রান্তি আছে, আজ তা সহজভাবে দূর করা যাক।
১. কেন এই পরিবর্তন ('ও-কার'-এর প্রয়োজন)?
রবীন্দ্রনাথ বা বঙ্কিমচন্দ্রের যুগে বানানের নিয়ম আজকের মতো ছিল না। তখন অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদেও 'ও-কার' ছাড়াই লেখা হতো। কিন্তু বাংলা বানানের আধুনিক নিয়মে উচ্চারণের স্পষ্টতা বজায় রাখার জন্য শব্দের শেষে ও-কার ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনুজ্ঞাবাচক ক্রিয়াপদে (কাউকে কিছু করতে বলা) ও-কার দিলে অর্থের বিভ্রান্তি দূর হয়।
এর ফলে বিশেষ্য (Noun) এবং ক্রিয়াপদ (Verb)-এর মধ্যে যথার্থ পার্থক্য সূচিত করা সম্ভব হয়। যেমন:
- বল (শক্তি) — বলো (কথা বলা)
- কর (হাত) — করো (কাজ করা)
- লেখ (চিত্র) — লেখো (লেখা)
২. আধুনিক প্রমিত নিয়মের সহজ ছক
| মূল শব্দ | ও-কারান্ত আধুনিক রূপ | উদাহরণ বাক্য |
|---|---|---|
| বল | বলো | তুমি সত্যি কথা বলো। |
| কর | করো | মন দিয়ে কাজটা করো। |
| হল | হলো | অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান হলো। |
| গেল | গেলো | সময়মতো সে স্কুলে গেলো। |
| লেখ | লেখো | খাতায় পরিষ্কার করে লেখো। |
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার সুচিন্তিত মতামত বা প্রশ্ন এখানে জানাতে পারেন। গঠনমূলক এবং জানার আগ্রহে আলোচনা কাম্য।