আমরা ছাত্রাবস্থায় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সবসময় দেখে এসেছি— "নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও"। আবার কোনো বস্তু বা ব্যক্তি সম্পর্কে বলি— "বইটি/লোকটি নীচে আছে"। কিন্তু বর্তমান সময়ের আধুনিক প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম বলছে - এসব ক্ষেত্রে হ্রস্ব-ই-কার দিয়ে 'নিচে'লেখা উচিত।
১. নীচ (দীর্ঘ-ঈ দিয়ে) - এটি একটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। এটি মূলত মানুষের চরিত্র বা স্বভাব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
অর্থ : হীন, অধম, নিকৃষ্ট বা ছোটলোক।
উদাহরণ : সে অত্যন্ত নীচ প্রকৃতির মানুষ।
২. নিচ (হ্রস্ব-ই দিয়ে) - এটি তদ্ভব (সংস্কৃত থেকে আগত) শব্দ। মূলত অবস্থান বা দিক বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। বাংলা একাডেমি এবং আধুনিক ব্যাকরণবীদদের মতে
অর্থ : নিচে অবস্থিত, নিচু স্থান বা তলা।
উদাহরণ : বইটি টেবিলের নিচে রাখো। বা, নিচে দেখুন।
![]() |
| নীচ ও নিচ - কোথায় কোনটি? |
সারকথা : নীচ, বা নিচ - কোনোটাই ভুল নয়। তবে প্রয়োগ ক্ষেত্র ভিন্ন। স্বভাব বা চরিত্র বোঝাতে - নীচ, (ঈ-কার দিয়ে) আর অবস্থান বা দিক বোঝাতে - নিচ বা নিচে (ই-কার দিয়ে) ব্যবহার সঠিক।
শেষকথা : ভাষার এই বিবর্তন মূলত আমাদের ভাব প্রকাশের সুবিধার্থেই। প্রমিত নিয়মে নীচ এবং নিচ এর পার্থক্য বজায় রাখলে আমাদের ভাষা আরো নিখুঁত ও অর্থবহ হবে। একজন সচেতন পাঠক এবং লেখক হিসেবে এই সূক্ষ্ম পার্থক্য গুলো আমাদের মেনে চলা উচিত।
●●● এবার দেখুন তো নিচের শূন্য স্থান দুটো পূরণ করতে পারেন কি না?
● নিজের মনকে এতটাই ....১... করবেন না যাতে সকলের সামনে মাথা ...২... করে চলতে হয়। (কমেন্ট করে উত্তর জানান)

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার সুচিন্তিত মতামত বা প্রশ্ন এখানে জানাতে পারেন। গঠনমূলক এবং জানার আগ্রহে আলোচনা কাম্য।