চিরচেনা একটি শব্দ হলো 'গরু'। তবে ইদানীং বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক ও অভিধানে 'গোরু' বানানটি দেখতে পাচ্ছি। তখন সংশয় জাগছে- 'গরু' লিখব, না 'গোরু'? সহজ আলোচনায় এই সংশয় দূর করা যাক।
১. মূল শব্দের উৎস (ব্যাকরণগত ব্যাখ্যা)
'গরু' রূপে যাকে আমরা দেখে অভ্যস্ত সেই শব্দের আদি উৎস হলো সংস্কৃত 'গো'। ব্যুৎপত্তিগতভাবে এই 'গো' শব্দ থেকেই বাংলায় 'গোরু' বা 'গরু' এসেছে। যেহেতু মূল শব্দে 'ও-কার' আছে, তাই ভাষা গবেষকদের মতে 'গোরু' বানানটি শব্দের উৎসের সাথে বেশি সংগতিপূর্ণ।
২. বাংলা একাডেমির বর্তমান সিদ্ধান্ত
বর্তমানে বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের অভিধানে ‘গোরু’ বানানটিকে মান্য করে বা অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রহণ করেছে। আধুনিক নিয়ম অনুযায়ী, তদ্ভব বা দেশি শব্দের ক্ষেত্রে উচ্চারণের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘ও-কার’ ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
৩. তবে কি 'গরু' বানানটি ভুল?
না, 'গরু' বানানটি ভুল নয়। এটি দীর্ঘকাল ধরে আমাদের ভাষায় বহুল প্রচলিত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত একটি তদ্ভব শব্দ। অনেক কালজয়ী সাহিত্যকর্মেও আমরা 'গরু' বানানটিই দেখে এসেছি। তবে নিয়ম পরিবর্তনের সাথে সাথে বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক ও শিক্ষামূলক ক্ষেত্রে 'গোরু' লেখাই অধিকতর শ্রেয়।
৪. সহজ কথা
পরীক্ষার খাতায় বা পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী বর্তমানে 'গোরু' লেখাটিই নিরাপদ। তবে সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে যদি আগের অভ্যাসে 'গরু' লেখা, তবে তাকে ব্যাকরণগতভাবে ভুল বলা যাবে না।
৫. শেষকথা
প্রচলিত 'গরু' বানানটি আমাদের অভ্যাসে গেঁথে থাকলেও, ব্যুৎপত্তিগত শুদ্ধতা এবং আধুনিক বাংলা একাডেমির নির্দেশিকা মেনে 'গোরু' লেখাই এখন অধিকতর শ্রেয়। একজন সচেতন পাঠক ও শিক্ষার্থী হিসেবে শুদ্ধ বানানের এই চর্চা আমাদের ভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করবে। বানানটি নিয়ে আপনার কোনো ব্যক্তিগত মতামত বা প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে অবশ্যই জানাবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার সুচিন্তিত মতামত বা প্রশ্ন এখানে জানাতে পারেন। গঠনমূলক এবং জানার আগ্রহে আলোচনা কাম্য।