নমস্কার,
'পিন্টু স্যারের সহজ বাংলা' ব্লগে সকলকে স্বাগত। আগের দুটি পর্বে আমরা দেখেছি কীভাবে একটিমাত্র বাক্যের সাহায্যে ছয়টি কারককে চিহ্নিত করা যায় এবং আমরা কর্তৃ, কর্ম ও করণ কারককে বিস্তারিত চিনেছি। কারক সিরিজের শেষ পর্বে আমরা বাকি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সদস্য— অপাদান, অধিকরণ এবং নিমিত্ত কারককে খুব সহজভাবে চিনে নেব। এই আলোচনাটি পড়লে কারক নির্ণয়ের বাকি দ্বিধাটুকুও দূর হয়ে যাবে।
৪. অপাদান কারক (Ablative Case):
সহজ কথা : যা থেকে কোনো কিছু বিচ্যুত, গৃহীত, জাত, বিরত, আরম্ভ, দূরীভূত হয় এবং যা দেখে কেউ ভীত হয়, তাকেই অপাদান কারক বলে।
চেনার কৌশল : ক্রিয়াকে ‘কোথা হতে/থেকে ’ বা ‘কী হতে/থেকে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে, সেটিই হলো অপাদান কারক।
উদাহরণ : “পুরোহিতমশাই থালা হতে পুষ্প নিবেদন করেন।” (এখানে প্রশ্ন: কোথা হতে নিবেদন করেন? – উত্তর : থালা হতে, সুতরাং ‘থালা হতে’ হলো অপাদান কারক)।
বিশেষ বিষয় : অপাদান কারকে অনেক সময় ‘হতে’, ‘থেকে’, ‘চেয়ে’ ইত্যাদি অনুসর্গ (৫মী বিভক্তি হিসেবে) থাকে। তবে, অনুসর্গ ছাড়াও কেবল শূন্য বিভক্তি দিয়েও অপাদান কারক হতে পারে। যেমন— "ট্রেন স্টেশন ছাড়লো"। এখানে কোনো অনুসর্গ না থাকলেও স্থান থেকে বিচ্যুত হওয়া বোঝাচ্ছে বলে 'স্টেশন' অপাদান কারক।
৫. অধিকরণ কারক (Locative Case):
সহজ কথা : ক্রিয়া সম্পাদনের কাল (সময়) এবং আধারকে (স্থান/বিষয়) অধিকরণ কারক বলে।
চেনার কৌশল : ক্রিয়াকে ‘কোথায়’ বা ‘কখন’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে, তাই হলো অধিকরণ কারক।
উদাহরণ : “পুরোহিতমশাই প্রতিদিন ভোরে দেবালয়ে পুষ্প নিবেদন করেন।” (এখানে প্রশ্ন : কখন ও কোথায় নিবেদন করেন? – উত্তর : প্রতিদিন ভোরে ও দেবালয়ে, সুতরাং এগুলো অধিকরণ কারক)।
বিশেষ বিষয় : অধিকরণ কারক তিন প্রকার— কালাধিকরণ (সময় বোঝাতে), আধারধিকরণ (স্থান এবং বিষয় বোঝাতে) এবং ভাবাধিকরণ (একটি ক্রিয়া অন্য ক্রিয়ার কারণ বা ভাব বোঝাতে)।
৬. নিমিত্ত কারক (Benefactive Case):
সহজ কথা : যখন কোনো কিছুর জন্য বা কারও উদ্দেশ্যে কোনো কাজ করা হয় এবং তার ওপর কোনো স্বত্ব থাকে না, তাকে নিমিত্ত কারক বলে।
চেনার কৌশল : ক্রিয়াকে ‘কার জন্য’ বা ‘কিসের নিমিত্ত/উদ্দেশ্যে’ দিয়ে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যাবে, সেটিই হবে নিমিত্ত কারক।
উদাহরণ : “পুরোহিতমশাই দেবতার উদ্দেশ্যে পুষ্প নিবেদন করেন।” (এখানে প্রশ্ন : কার উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন? – উত্তর : দেবতার উদ্দেশ্যে, সুতরাং ‘দেবতার উদ্দেশ্যে’ হলো নিমিত্ত কারক)।
বিশেষ বিষয় : কখনো কখনো ক্রিয়াকে 'কাকে' দিয়ে প্রশ্ন করলেও নিমিত্ত কারক পাওয়া যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, যেখানে কোনো স্বার্থ ত্যাগ করে দান বা উদ্দেশ্য বোঝায়, সেখানেই নিমিত্ত কারক হয়।
সহজ ছবি ও ছকে কারক চেনা (ছাত্রছাত্রীদের জন্য):
| কারক | চেনার উপায় (প্রশ্ন) | উত্তর (উদাহরণ থেকে) |
|---|---|---|
| অপাদান কারক | কোথা হতে? | থালা হতে |
| অধিকরণ কারক | কোথায় / কখন? | দেবালয়ে / প্রতিদিন ভোরে |
| নিমিত্ত কারক | কার উদ্দেশ্যে? | দেবতার উদ্দেশ্যে |
| ছবিতে কারক চেনা |
তিনটি পর্বের এই আলোচনার মাধ্যমে আমরা দেখলাম যে বাংলা ব্যাকরণের কারক নির্ণয়ের নিয়মগুলো একটিমাত্র বাক্যের ‘ম্যাজিক’ দিয়ে সহজে আয়ত্ত করা যায়। আশা করি, এই সিরিজটি পড়ার পর কারক নির্ণয়ে সকল সংশয় দূর হবে।
কারক কাকে বলে, কারক নির্ণয়ের সহজ কৌশল ইত্যাদি গোড়া থেকে জানতে ক্লিক করুন ⤵️
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার সুচিন্তিত মতামত বা প্রশ্ন এখানে জানাতে পারেন। গঠনমূলক এবং জানার আগ্রহে আলোচনা কাম্য।